তখন গ্যারেথ সাউথগেটের নয়নের মণি কাইল ওয়াকার আর কিয়েরান ট্রিপিয়ের।
চোটমুক্ত থাকলে সুযোগ পাচ্ছেন রিস জেমসও। লিভারপুলের হয়ে ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার-আরনল্ডের দুর্দান্ত ফর্ম ও সাউথগেটের কপালের ভাঁজই বাড়াচ্ছে। রাইটব্যাকে থেকে রক্ষণে বাড়তি নিরাপত্তার দরকার হলে আছেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা আর জো গোমেজ। মূল একাদশে একটিবার সুযোগ পাওয়ার জন্য দরজায় কড়া নাড়ছেন টোনি লিভরামেন্তো, বেন হোয়াইট, এজরি কনসা, তারিক ল্যাম্পটি, কাইল ওয়াকার-পিটার্স… ইংল্যান্ডের রাইটব্যাকের সংখ্যা গোণা শুরু করলে কখনও কখনও দশ আঙ্গুলের রেখাও কম পড়ে যায়।
জর্জ বালডক জানতেন সেটা। জানতেন, এই ভিড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডের মতো পুঁচকে ক্লাবের ঝাণ্ডা উড়িয়ে সাউথগেটের নজরে পড়া একরকম অসম্ভব। অসম্ভব আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেণু গায়ে মাখানো, ইউরো-বিশ্বকাপ-নেশনস লিগের মত বৈশ্বিক আসরের অংশ হওয়া। অথচ শেফিল্ড তখন ওভারল্যাপিং সেন্টারব্যাকের চমক-জাগানো কৌশল দেখিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ভালোই আলো ছড়াচ্ছে – রাইটব্যাক/রাইট উইংব্যাক হয়ে যে কৌশলে পূর্ণতা আনতেন এই বালডক।
তাই দাদীর সূত্রে গ্রিসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা। হ্যাঁ, ২০০৪ ইউরোতে রোনালদোদের কাঁদানো সেই গ্রিস। সেবার দমবন্ধ রক্ষণে তাবৎ পৃথিবীকে বিরক্ত করা গ্রিস বিশ্বমানের ডিফেন্ডারই পায় না এখন।
শেফিল্ডের সঙ্গে সাত বছরের গাঁটছড়া ছাড়িয়ে ‘নতুন স্বদেশ’-এর ক্লাবে নাম লিখিয়েছিলেন ক’মাস আগেই। যে দেশের জার্সি গায়ে জড়াচ্ছেন, সেই দেশের লিগে খেলে নিজেকে ওই দেশের সংস্কৃতি, জীবনাচার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও একটু অভ্যস্ত করিয়ে তোলার ইচ্ছে থেকেই হয়তো
ফলাফল? বালডকের আগ্রহে আগ্রহী হয়ে ওঠে তাঁরাও। ওয়াকার-ট্রিপিয়ের নন, বরং ইউরো জিতে জোসে মরিনিওর রেখে যাওয়া পোর্তোতে নাম লেখানো গিওর্কাস সেইতারিদিসের উত্তরসূরি হওয়ার স্বপ্ন তখন বালডকের চোখেমুখে। যে স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে কিছুদিন পর, পূরণ হয়েছে নেশনস লিগের মতো বৈশ্বিক আসরে খেলার প্রত্যাশাও।
গ্রিস পারেনি বিশ্বকাপ-ইউরোতে নাম লেখাতে। তাই বলে সামনেও কী পারত না? হয়তো পারত। আর যাই হোক, সবার মুখ বন্ধ করে ইউরো জিতিয়ে দেখানোর মত অবিশ্বাস্য কাজ করা যাদের ধাতে, তাঁরা সামনের কোনো ইউরো বা বিশ্বকাপে হাজির হয়ে দেখাতে পারবে না?
হয়তো পারবে।
শুধু সে সাফল্যের অংশীদার হওয়ার জন্য থাকবেন না বালডক।
গতকাল বাড়ির সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বালডকের মরদেহ। ইংল্যান্ডে থাকা স্ত্রী বহুক্ষণ ধরেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। কী হয়েছে খোঁজ লাগাতেই বেরিয়ে আসে সত্য। মাত্র ৭২ ঘন্টা আগেই প্যানাথিনাইকোসের হয়ে মাঠে নামা তারকা আজ দূর আকাশের তারাগুলোর সঙ্গী।
শেফিল্ডের সঙ্গে সাত বছরের গাঁটছড়া ছাড়িয়ে ‘নতুন স্বদেশ’-এর ক্লাবে নাম লিখিয়েছিলেন ক’মাস আগেই। যে দেশের জার্সি গায়ে জড়াচ্ছেন, সেই দেশের লিগে খেলে নিজেকে ওই দেশের সংস্কৃতি, জীবনাচার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও একটু অভ্যস্ত করিয়ে তোলার ইচ্ছে থেকেই হয়তো।
সব ইচ্ছে কী আর পূর্ণতার আকাশে ডানা মেলে?