রোমার অধিনায়ক তো এমনই হয়!

সম্রাটের বিদায়বেলায় রোমের লাল দুর্গ রক্ষা করার জন্য ফেরানো হয়েছিল ‘ছোট’ রাজপুত্রকে। নতুন সম্রাট হিসেবে অধিষ্ঠান করার জন্যই।

অবশ্য ফ্রান্সেসকো টট্টি’র মতো আজীবন রোমায় খেলে যাওয়ার সৌভাগ্য টট্টির মতই রোমে জন্ম নেওয়া লরেনৎসো পেলেগ্রিনির হয়নি। পাননি সে সুযোগটুকু, ‘বড়’ রাজপুত্র ড্যানিয়েলে ডি রসি ছিলেন যে! টট্টি’র অবসরের সময়, সাসসুয়োলো-তে পেলেগ্রিনির উত্থান দেখে নিজেদের ভুল শোধরানোর ইচ্ছে হয় রোমা কর্তৃপক্ষের। ইচ্ছে হয়, ‘ছোট’ রাজপুত্রকে ফিরিয়ে টট্টির ফেলে যাওয়া মসনদ বুঝিয়ে দিতে।

দু বছর পর ডি রসিও বিদায় নেন সন্তর্পণে। ফলে অধিনায়কত্ব নামের সে মসনদ পেলেগ্রিনি পেলেন ঠিকই। কিন্তু সেটা রক্ষা করতে পারছিলেন কোথায়? টট্টির মতো ফরোয়ার্ড নন, তাই নিয়মিত গোল করে ও করিয়ে রোমানিস্তিদের চোখে মুগ্ধতার পরশ বোলাতে পারেননি ফি-হপ্তা। একের পর এক কোচ আর খেলার স্টাইলের বদলও প্রভাব ফেলছিলো বেশ।

ঠিকঠাক খেলতে পারছিলেন না। রোমার অধিনায়ককে অকুতোভয় হতে হয়, পরিস্থিতি যেমনই হোক, মাথা উঁচিয়ে লড়তে হয়। পেলেগ্রিনি পারছিলেন না। ফলে সমালোচনার তিরগুলো লক্ষ্য খুঁজতে ভুল করেনি।

চলতি মৌসুমেই কোচ বদলালো তিনবার। মাসখানেক আগে ক্লদিও রানিয়েরি এসে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন, ‘টেকনিক্যালি ও বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। তবে কে কি বললো না বললো তা নিয়ে ওর বড্ড মাথাব্যথা। ওকে এটা ঠিক করতে হবে।’

শোরগোল শুরু হলো। জানুয়ারির দলবদলের সময় কোচের মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়ার অর্থ একটাই, ক্লাব ছাড়ার পয়গাম। রোমার সাবেক কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড রবের্তো প্রুৎসো-ও পেলেগ্রিনিকে বিক্রি করার পক্ষে রায় দিলেন।

নাপোলি, ফিওরেন্তিনার মতো দলগুলো খোঁজ নেওয়া শুরু করল পেলেগ্রিনির ব্যাপারে। হাজার হোক, রোমার মতো ক্লাবের অধিনায়ক। ইতালিতে খেলেনও নিয়মিত। মরা হাতির দামই যেখানে লাখ টাকা, সেখানে মরাকে কোনোভাবে জিইয়ে তোলা গেলে?

লাভ বৈ ক্ষতি নেই কোনো।

এসব দেখে বুঝি আড়ালে মুচকি হাসছিলেন রানিয়েরি। লেস্টারকে প্রিমিয়ার লিগ জিতিয়ে রূপকথার জন্ম দেওয়া রানিয়েরি খুব ভালো করেই জানতেন, কাকে কী বললে ভেতরের চাপা আগুনটা বের করে আনা যায়। পেলেগ্রিনির ভেতরের জেদটা যেন স্তাদিও অলিম্পিকোতে গোলের ফুল হয়ে ফোটে, রানিয়েরি তো সেটাই চাইছিলেন!

আর সেই ফুল ফোটার সময় হিসেবে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী লাৎসিওর বিপক্ষে ম্যাচের চেয়ে ভালো উপলক্ষ আর কী-ই বা হতে পারে?

টানা চার ম্যাচ মূল একাদশে সুযোগ না পাওয়া পেলেগ্রিনিকে চিরশত্রুদের বিপক্ষে শুরু থেকেই নামিয়ে দিলেন রানিয়েরি। পোড় খাওয়া কোচ যে ভুল মানুষের ওপর বাজি ধরেননি, প্রমাণ করতে রোমের অধিনায়ক সময় নিলেন স্রেফ ১১ মিনিট।

অ্যালেক্সিস স্যালেমেকার্সের পাসটা ডি-বক্সের ঠিক সীমানায় খুঁজে পেয়েছিল পেলেগ্রিনিকে। বলটাকে ডান পা দিয়ে সুচতুরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে রোমার অধিনায়কের লাগল তিন স্পর্শ।

ততক্ষণে লাৎসিওর তিনজন ডিফেন্ডার পরাস্ত, একজন তো পড়েই গেলেন। সেকেন্ড দেড়েক পর বলের ঠিকানা হলো ইতালিয়ান গোলকিপার ইভান প্রোভেদেলের পেছনে থাকা জালে।

শুধু জালে বলা ভুল হবে। হাজারো রোমা সমর্থকদের মনেও কি নয়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

Got a PROJECT

IN MIND?

©2024 Nishat Ahmed Zishan, All Rights Reserved.

Developed by Asif Mollik