যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : নবাগত সেনেগালে ধরাশায়ী ফ্রান্স

আর মাত্র ২৭ দিন বাকী। ২৭ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!

১৯৯৮ বিশ্বকাপ শুরু সময়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিং এ ২৫ তম স্থানে থাকা ফ্রান্সকে সেভাবে কেউই ভাবেনি বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে। যদিও পরবর্তীতে এই ফ্রান্সই সকল নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। ফলাফল, ফিফা র‍্যাঙ্কিং এ ২৫ তম স্থান থেকে এক লাফে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালের সেই সময় থেকে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জেতার আগ পর্যন্ত মাত্র ছয়টা ম্যাচ হারে তারা। অর্জন করে পরপর বিশ্বকাপ ও ইউরো জেতার অনন্য ডাবল – ইউরো ২০০০ ও গিয়েছিল ফ্রান্সের ঝুলিতেই। ফ্রান্স কোচ রজার লেমেরে যখন ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ফ্রান্স কে নিয়ে গেলেন, ফ্রান্স দলের প্রতি প্রত্যাশা তখন আকাশচুম্বী। দল এখন আরও অনেক অভিজ্ঞ, সুপারস্টারে ভর্তি। জিদান, থুরাম, ম্যাকেলেলে, বার্থেজ, পেতিত, লিজারাজু, ভিয়েরা, জুরকায়েফ, সিসে, ডেজাইলি, অঁরি, ত্রেজেগে – কে নেই তখন সেই দলে! দলের গড় বয়স একটু বেশী ছিল, ২৯, কিন্তু তাতে কি! এই দল নিয়েই আবারও বিশ্ব শাসন করবে ফ্রান্স, এমনটাই ভবিষ্যদ্বাণী ছিল অধিকাংশ মানুষের।

২০০২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচই ছিল ফ্রান্সের, প্রতিপক্ষ নবাগত সেনেগাল। এর আগে কখনই বিশ্বকাপ আসা হয়নি সেনেগালের। তবে সেনেগালকে অনেকেই তখন ফ্রান্সের ‘বি’ দল বলে পরিচয় দিচ্ছিলেন, এদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ফরাসী কোচ রজার লেমেরেও। কেননা ঐ সেনেগাল স্কোয়াডের ২৩ জনের মধ্যে ২১ জন খেলোয়াড়ই তখন ফরাসী লিগে খেলতেন, এমনকি তাদের কোচ ব্রুনো মেটসুও ছিলেন ফরাসী। রজার লেমেরে আগেই বলে রেখেছিলেন, সেনেগালকে ছোট করে দেখার কিছু নেই, বড় বিপজ্জনক দল এই সেনেগাল। তাঁর উপর ইনজুরির কারণে দলের মূল ভরসা জিনেদিন জিদান মাঠের বাইরে। সব মিলিয়ে রজার লেমেরে ঈশান কোণে মেঘ দেখেছিলেন বুঝি!

লেমেরের আশঙ্কাই সত্যি হল। ম্যাচ শুরু হবার সাথে সাথে মুহুর্মুহু আক্রমণে ফ্রান্সের বর্ষীয়ান ডিফেন্সকে তটস্থ করে রাখলো সেনেগাল। মিডফিল্ডার পাপা বুবা দিওপ আর সালিফ দিয়াও, স্ট্রাইকে এল হাজি দিউফ আর ডিফেন্সে অধিনায়ক আলু সিসে – এই কয়জনই মূলত ফ্রান্সকে নিজেদের খেলাটা ঠিকভাবে খেলতে দিচ্ছিলেন না। প্রথম থেকেই সেনেগালিজরা টার্গেট করে রাখে ফ্রান্সের বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার, চেলসির ফ্র্যাঙ্ক লেবোফকে – তাঁর দিকেই বারবার আক্রমণ করতে থাকেন স্ট্রাইকার এল হাজি দিউফ। এই আক্রমণ করার ফলও হাতেনাতে পায় তারা। ৩০ মিনিটে এল হাজি দিউফের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার পাপা বুবা দিওপ!

পরের এক ঘন্টা ফ্রান্স সেনেগালের মধ্যে কোন ফাঁকফোকরই বের করতে পারেনি ম্যাচ জেতার জন্য। জিনেদিন জিদানের অনুপস্থিতি সেদিন অনেক বেশী ভুগিয়েছে ফ্রান্স কে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি যেটা হয়েছিল, সেনেগাল খুব সফলভাবে ফ্রান্সের মনোবল ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে সেই বিশ্বকাপে ফ্রান্স প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ তো পড়েই, তিন ম্যাচে একটা গোলও করতে পারেনি তারা। টুর্নামেন্টের পরপরই দল থেকে ছাঁটাই হন কোচ রজার লেমেরে। আর ওদিকে দ্বিতীয় রাউন্ড তো বটেই, দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইডেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সেনেগাল অব্যাহত রাখে তাদের স্বপ্নযাত্রা!

*মে ১৮, ২০১৮ তারিখে গোল্লাছুট ডটকমে প্রকাশিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

Got a PROJECT

IN MIND?

©2024 Nishat Ahmed Zishan, All Rights Reserved.

Developed by Asif Mollik