যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : রোমানিয়ানদের অদ্ভুতুড়ে হেয়ারস্টাইল!

আর মাত্র ৪৮ দিন বাকী। ৪৮ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!
১৯৯৮ বিশ্বকাপ এ রোমানিয়া বেশ প্রতিশ্রুতিশীল একটা দল ছিল। ঘিওর্গি হ্যাজি, ড্যান পেত্রেস্কু, ভিওরেল মলদোভান প্রভৃতি খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা সম্বলিত দলটা চুরানব্বই বিশ্বকাপ এর কোয়ার্টার ফাইনাল সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে, বা তাঁর থেকেও ভালো করবে, এরকমই প্রত্যাশা ছিল তাদের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ এর দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যারাডোনা-বাতিস্তুতাদের আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা রোমানিয়া ১৯৯৮ সালেও তাঁদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। ইংল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও কলম্বিয়ার গ্রুপে পড়া রোমানিয়া প্রথম ম্যাচেই কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে শুভসূচনা করে। দ্বিতীয় ম্যাচে মলদোভান আর পেত্রেস্কুর গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দেয় তারা। ফলে শেষ ম্যাচ খেলার আগেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যায় তাঁদের। শেষ ম্যাচে তাঁদের মাত্র এক পয়েন্ট দরকার ছিল, গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করার জন্য। কারণ নূন্যতম এক পয়েন্ট পেলে, শীর্ষে থাকলে দ্বিতীয় রাউন্ডে মহাপরাক্রমশালী আর্জেন্টিনাকে এড়ানো যাবে। শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেই ফুটবল বিশ্বকে বেমক্কা আরেকটা চমক উপহার দেয় রোমানিয়ানরা। তবে না – এবার মাঠের খেলা আর ফলাফল দিয়ে নয়!
রোমানিয়া দলের ১১ জনের সবাই সেদিন চুলে ব্লিচ করে ব্লন্ড হয়ে নামে। এগারোজনের সবার মাথাই ধবধবে সাদা! হেয়ারস্টাইল দেখে সবারই চোখ কপালে ওঠার দশা! রোমানিয়ানদের এই কীর্তি বাকী বিশ্বের কাছে এতটাই হাস্যকর ছিল যে মিডিয়া এই ম্যাচের পর তাঁদের নামই দিয়ে দেয় “দ্য ব্লিচ বয়েজ”! তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সে ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও পরে ভিওরেল মলদোভানের গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে রোমানিয়ানরা। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই ওঠে তারা, আর্জেন্টিনাকেও এড়ায় তারা। দ্বিতীয় রাউন্ডে রোমানিয়া প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় ক্রোয়েশিয়াকে। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে এড়িয়ে লাভ হয় না তাঁদের। ডেভর সুকারের একমাত্র পেনাল্টি গোলে রোমানিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় টুর্নামেন্টের আরেক প্রতিশ্রুতিশীল দল ক্রোয়েশিয়া।

সেদিন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে কেন চুলে ব্লিচ করে নেমেছিল রোমানিয়া? সঠিক উত্তর কারোর কাছেই জানা নেই! কতিপয় ফুটবল পণ্ডিতদের ধারণা – মাঠে খেলার সময় খেলোয়াড়েরা যেন সতীর্থদের ঠিকমত চিনতে পারে তাই এই ব্যবস্থা!
কিন্তু সতীর্থদের মাঠে ভালোভাবে যেন চিনতে পারা যায় এইজন্যই না ইতোমধ্যে একই জার্সি পরিধান করে মাঠে নামার নিয়ম রয়েছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

Got a PROJECT

IN MIND?

©2024 Nishat Ahmed Zishan, All Rights Reserved.

Developed by Asif Mollik