যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : নির্লজ্জ কোরিয়ার কাছে ইতালির বিদায়

আর মাত্র ৪৩ দিন। ৪৩ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!
কোরিয়া-জাপানে তখন হচ্ছে ২০০২ বিশ্বকাপ। অনেকের মতেই ইতালি হতে পারে সেবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সেই চুরাশির পর থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার বরমাল্য ওঠেনি যাদের গলায়। আশায় বুক বেঁধে আছে বিশ্বব্যাপী সকল ইতালিয়ান সমর্থক। গোলবারে জিয়ানলুইজি বুফন, ডিফেন্সে বিশ্বসেরা মালদিনি-ক্যানাভারো-নেস্তা-জামব্রোত্তা, মিডফিল্ডে গাত্তুসো, স্ট্রাইকে দেল পিয়েরো-টট্টি-ইনজাঘি-ভিয়েরির মত তারকারা বিশ্বকাপ পাবেন না ত কে পাবেন?
কিন্তু আশা ভঙ্গ হল দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়েই। স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বাজে রেফারিংয়ের কারণে চরম বিতর্কিত একটা ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা জলাঞ্জলি দিতে হল ইতালিকে। ১৮ মিনিটে তখন ইন্টার মিলানে খেলা ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরির দেওয়া গোলটা ৮৮ মিনিটে শোধ করলেন সিউল কি-হিউন আর ১১৮ মিনিটের গোল্ডেন গোলে ইতালিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিলেন আন জুন-হুয়ান। ঐ ম্যাচেই জুন-হুয়ান একটা পেনাল্টিও মিস করেছিলেন, কিন্তু কি ভাগ্য! পরবর্তীতে গোল্ডেন গোল করে তিনিই কোরিয়ানদের কাছে জিরো থেকে হিরো হয়ে যান! কাকতালীয়ভাবে আন জুন-হুয়ান তখন খেলতেন ইতালিয়ান ক্লাব পেরুজিয়াতেই! ম্যাচের পর ক্ষিপ্ত পেরুজিয়ার চেয়ারম্যান লুসিয়ানো গচ্চি এই বলে জুন-হুয়ান এর চুক্তি বাতিল করতে চান যে, “ভদ্রলোক আর কখনো পেরুজিয়ার মাটিতে পা রাখবেন না, যে লোক ইতালিয়ান ফুটবলকে ধ্বংস করেছে তাঁকে টাকা দিয়ে পুষার খায়েশ নেই আমার!” যদিও পরে পেরুজিয়া থেকে জানানো হয়, জুন-হুয়ান কে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ শুরু হবার আগেই পেরুজিয়া নিয়ে রেখেছিল, কিন্তু তাই বলে কি আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়! পরে লুসিয়ানো গচ্চি আবার নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেও জুন-হুয়ানই আর কখনো খেলেননি পেরুজিয়ার হয়ে!

তবে আন জুন-হুয়ান না, ম্যাচটাকে বিশ্ববাসী মনে রেখেছে রেফারি বায়রন মরেনোর জঘন্যতম রেফারিং এর কারণে। বিশেষত ইতালিয়ানরা। এই ইকুয়েডোরিয়ান ভদ্রলোক ম্যাচে বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত দেন যার মাশুল গুণতে হয় ২০০০ ইউরোর ফাইনালিস্টদের। সেবার ডেভিড ত্রেজেগের গোল্ডেন গোলে ইউরো হারানো ইতালি দল এবারও আরেক গোল্ডেন গোলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। তবে এতে যতটা না কোরিয়ানদের সাফল্যের অবদান বেশী, তাঁর থেকেও বেশী ‘কৃতিত্ব’ ছিল বায়রন মরেনোর জঘন্য রেফারিং এর। অতিরিক্ত সময়ে ড্যামিয়ানো টমাসির গোল খামোকাই অফসাইড ডাকা থেকে শুরু করে কোন কারণ ছাড়াই সুপারস্টার ফ্র্যানসেস্কো টট্টিকে লাল কার্ড দেখানো – ইতালি তো ম্যাচ হেরে গিয়েছিল আসলে এই দুই সিদ্ধান্তের পরই! আন-জুন হুয়ানের গোলটা ছিল মূলত ইতালির কফিনের শেষ পেরেক। যার ফলে তারকায় ঠাসা এক দল নিয়েও দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় ইতালিকে, আর বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে ন্যাক্কারজনক রেফারিং!
২০০২ সালের ঐ ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বায়রন মরেনো নিজের দেশে ফিরে গিয়ে ফুটবল পণ্ডিত হিসেবে কাজ করতেন বিভিন্ন চ্যানেলে। ইতালি ছাড়া সারা বিশ্ব হয়তোবা তাঁকে ভুলেই গিয়েছিল, কিন্তু তিনি আবারও আলোচনায় আসেন ২০১০ সালে, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে নিজের জাঙ্গিয়ার মধ্যে হেরোইন চোরাচালান করতে গিয়ে ধরা পড়ে! এই ঘটনা সম্পর্কে ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২০০২ সালের ঐ ম্যাচের দিনেও তাঁর কাছে হেরোইন ছিল। তাঁর জাঙ্গিয়াতে হয়তো ছিলনা সেদিন, কিন্তু সিস্টেমে অবশ্যই ছিল!”
বুফনের এই এক কথাতেই বোঝা যায় ইতালিয়ানরা কিরকম ঘৃণা করে বায়রন মরেনোকে!

*মে ২, ২০১৮ তারিখে গোল্লাছুট ডটকমে প্রকাশিত

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

Got a PROJECT

IN MIND?

©2024 Nishat Ahmed Zishan, All Rights Reserved.

Developed by Asif Mollik