আনন্দের ফেরিওয়ালা?
হ্যাঁ। এক অর্থে তাঁকে আনন্দের ফেরিওয়ালা বলাই যায়। খেলোয়াড়দের কাজই তো আনন্দ ফেরি করে বেড়ানো! যে আনন্দ জাগতিক সকল দুশ্চিন্তা থেকে দর্শকদের দু-দণ্ড রেহাই দেবে। শান্তি দেবে।
তিনিও তাঁর ব্যতিক্রম ছিলেন না। আর দশজন ফুটবলারদের মতো সবাইকে আনন্দ দিতেই চাইতেন। ফুটবল খেলে আনন্দ পেতে চাইতেন। হয়তো বিশ্বের অন্যতম সেরাদের কাতারে যাওয়া হয়নি কখনই। চেলসিতে যখন ছিলেন, এদেন হ্যাজার্ড, উইলিয়ান, পেদ্রো, অস্কারদের ছায়ায় ম্লান হয়ে থাকতে হয়েছে। ক্লাবে ক্লাবে ঘুরেছেন ধার চুক্তিতে।
সামর্থ্যে খামতি থাকলেও, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে খামতি ছিল না একরত্তি। গোল করে, করিয়ে কিংবা উইং দিয়ে নিরন্তর ছোটাছুটি করে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন সবসময়…
…নিজের জীবনের শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত।
ক-জনের সৌভাগ্য হয় ফুটবল মাঠে নিজের শেষ ‘কিক’টা দিয়ে গোল করে দর্শকদের আনন্দ-সাগরে ভাসানোর সন্তুষ্টি নিয়ে জীবনের মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার?
ক্রিশ্চিয়ান আটসুর হয়েছে।
কাসিমপাসার বিপক্ষে সেদিনই ৯৭ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে নিজের দল হাতায়স্পোরকে মহামূল্যবান জয় এনে দিয়েছিলেন। হয়তো ভাবেননি, প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের কবলে পড়ে জীবন হারানোর আগে সেটাই হবে ফুটবল মাঠে তাঁর সর্বশেষ স্মৃতি – দর্শকদের নিখাদ আনন্দ এনে দেওয়ার স্মৃতি।
দিনশেষে আনন্দের ফেরি করে বেড়ানো ফুটবলারদের সবচেয়ে সুখের স্মৃতি তো এমনই হয়, তাই না?