মেসি তখন ঠোঁট চেপে হাউমাউ করে কেঁদে যাচ্ছেন। অশ্রু বাঁধই মানছিল না।
কি আশ্চর্য, তাই না? বিশ্বকাপ হোক, বা মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগ-ঘরোয়া লিগ/কাপ হোক, হোক ব্যালন দ’র বা ফিফা বর্ষসেরার মুকুট – ফুটবল থেকে মেসির যা যা পাওয়ার কথা ছিল, সবই তো পেয়েছেন। তাও আরেকটা ফাইনাল পুরোপুরি খেলে দলকে জয়ের বন্দরে না ভেড়াতে পারার আক্ষেপ তাঁকে এভাবে কেন কুরে কুরে খাবে?
হয়তো দেড় যুগের পুরোনো ওই ভয়টা মনের মাঝে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। আর্জেন্টিনা যতই কোপা-ফিনালিসিমা আর বিশ্বকাপ জিতুক – এককালে আর্জেন্টিনা তো মেসি-সর্বস্বই ছিল! মেসি না খেলতে পারলে খেলতে পারে না আর্জেন্টিনা – কয়েক বছর আগেও কথাটা ছিল সূর্যের পূর্বদিকে ওঠা আর পশ্চিমে অস্ত যাওয়ার মতো ধ্রুব সত্য। সে মেসিই যদি ব্যর্থ হয়ে মাঠ ছাড়েন, বাকি দল কী করবে?
হয়তো এ ভয়টাই পাচ্ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
মেসির সেই যাতনা একদম কাছ থেকে দেখছিলেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস। মেসির পাশে বেঞ্চে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন। হয়তো শোনাচ্ছিলেন কোনো আশার বাণী – ‘কুছ পরোয়া নেহি’।
বেশি না, মাত্র পৌনে এক ঘন্টা পর বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে পারেদেসের ডাক পড়ল আর্জেন্টিনার স্বপ্ন রক্ষার জন্য। নিখুঁত ট্যাকলে মাঝমাঠেই আটকে দিলেন কলম্বিয়ার এক প্রতি আক্রমণ। তাড়াতাড়ি উঠে পাস দিলেন মাঝমাঠে নেমে যাওয়া লাওতারো মার্তিনেসকে। লাওতারোও ওয়ান টাচে বলটা ফেরত পাঠালেন তাঁর দিকে।
এবার পাস গেল আরেক মিডফিল্ডার জোভান্নি লো সেলসো’র দিকে। তাঁর এক স্পর্শে বল চলে গেল আগুয়ান স্ট্রাইকার লাওতারোর দিকে।
বড়জোর তিন সেকেন্ড – কলম্বিয়ার জালে বল ঠিকানা খুঁজে নিল। পারেদেসের কাউন্টার-ঠেকানো ট্যাকল থেকে যে মুভমেন্টের শুরু হয়েছিল, লো সেলসোর অ্যাসিস্টে সে মুভমেন্ট গোল হয়ে ধরা দিল লাওতারোর পায়ে।
তিনজনের কেউই আর্জেন্টিনার মূল একাদশের অংশ নন। এককালে ছিলেন। জায়গা হারিয়েছেন হয় নিজের দোষে, বা দুর্ভাগ্যে। একের পর এক গোল মিস করেন দেখে বিশ্বকাপের মাঝপথে হুলিয়ান আলভারেসকে মূল স্ট্রাইকারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া লাওতারো এখন যা করার বেঞ্চ থেকেই করেন।
আর স্কালোনির পছন্দের মিডফিল্ড কম্বিনেশন থেকে চোট আর ফর্মহীনতার কারণে লো সেলসো আর পারেদেস বাদ পড়েছেন আগেই – রদ্রিগো দি পলের সঙ্গী এখন এনসো ফের্নান্দেস আর অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার। যে এনসো-অ্যালেক্সিস জাদুতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা।
কিন্তু এবারের কোপা? নাহ, অমনটা বলা যাবে না। মূল একাদশ নয়, এবার বেঞ্চের শক্তিতেই আরেকবার মহাদেশসেরা হলো আলবিসেলেস্তিরা। বদলি নামা পারেদেস-লো সেলসো-লাওতারোরা কোপাজয়ী গোলের কারিগর হয়ে দেখিয়ে দিলেন, এই ৩৭ বছর বয়সে মেসি চাইলে স্বস্তিতে বেঞ্চে বসে থাকতেই পারেন!