যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে : হোসে বাতিস্তা আর লাল কার্ড উপাখ্যান!

আর মাত্র ৩৮ দিন বাকী। ৩৮ দিন পরেই শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ – বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের একবিংশতম আসর বসছে এইবার – রাশিয়ায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় কিছু ক্ষণ, ঘটনা, মুহূর্তগুলো আবারও এই রাশিয়া বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গোল্লাছুট ডটকমের বিশেষ আয়োজন “যত কাণ্ড বিশ্বকাপ ফুটবলে”!
১৯৮৬ বিশ্বকাপ এ খেলতে যাওয়ার আগে উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার হোসে বাতিস্তা নিজের দেশের মানুষের কাছে একরকম নায়কই ছিলেন। আর হবেন না-ই বা কেন? বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ মুহূর্তে এক গোল করে দলকে ২-১ গোলের জয় এনে দিয়ে তিনিই তো উরুগুয়েকে একরকম বিশ্বকাপ এ নিয়ে গিয়েছিলেন! বিশ্বকাপ এ গিয়ে উরুগুয়ে সেবারের “গ্রুপ অফ ডেথ” এ পড়লো – ডেনমার্ক, পশ্চিম জার্মানি আর স্কটল্যান্ডের সাথে। পশ্চিম জার্মানির সাথে প্রথম ম্যাচে 0-0 গোলে ড্র করে প্রথম ম্যাচ থেকে একটা মহাগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করলেও উরুগুয়ের মেরে-ধরে খেলার স্টাইলটা বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচে একইরকম খেলতে গিয়ে যদিও তারা কোন লাভ করতে পারেনি, ডেনমার্কের কাছে ৬-১ গোলে হেরে যায় তারা। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে হলে শেষ ম্যাচে অন্তত এক পয়েন্ট পেতেই হবে – এরকম সমীকরণের সামনে এসে দাঁড়ায় তারা। আর তাদের শেষ ম্যাচ ছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
নিয়মিত কোচ জক স্টেইনের হঠাৎ মৃত্যুর কারণে সেবার স্কটল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে অ্যালেক্স ফার্গুসন নামের একজন ভদ্রলোককে বিশ্বকাপে পাঠায় (যে ভদ্রলোক পরবর্তী জীবনে নিজেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তী কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন)।
অন্ততপক্ষে এক পয়েন্ট পাওয়ার তাড়নাতেই কি না, পাগলের মত খেলা শুরু করে উরুগুয়ে – ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই। যেটার প্রতিফলন দেখা যায় ম্যাচের ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যেই! উরুগুয়ের সেই ডিফেন্ডার হোসে বাতিস্তা ম্যাচের ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যেই স্কটল্যান্ডের সুপারস্টার মিডফিল্ডার গর্ডন স্ট্র্যাশানকে পিছন থেকে অনেক বাজেভাবে ফাউল করেন।
ফলাফল? লাল কার্ড!

বিশ্বকাপে এর থেকে তাড়াতাড়ি লাল কার্ড দেখার নজির আর অন্য কোন খেলোয়াড়ের নেই। ৫৬ সেকেন্ডে লাল কার্ড দেখে হোসে বাতিস্তা মাঠ ছাড়ার কারণে কার্যত গোটা ম্যাচই ১০ জন নিয়ে খেলা উরুগুয়ে শেষমেষ স্কটল্যান্ডকে তাও আটকে রাখতে সক্ষম হয়, 0-0 গোলে ড্র করে তারা। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে কষ্টেসৃষ্টে ওঠে উরুগুয়ে, আর প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যায় স্কটল্যান্ড। স্কটিশরা হয়তোবা এখনো হোসে বাতিস্তার প্রতি বিষেদ্গার করে যায়। কেননা সেই ট্যাকলের পর অই ম্যাচে গর্ডন স্ট্র্যাশান খেলতে পারলেও তাঁর কার্যকারিতা দেখাতে পারেননি আর। আর সুপারস্টার স্ট্র্যাশান সেই ম্যাচে ছন্দে থাকলে হয়তো উরুগুয়ে নয়, দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠত স্কটল্যান্ডই! যদিও দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে গেরে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটে। যে আর্জেন্টিনা পরে এই বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়।
সে বিশ্বকাপ এর পরে আরও ৭টা বিশ্বকাপ পেরিয়ে গেছে, কিন্তু হোসে বাতিস্তার মত এত তাড়াতাড়ি ম্যাচে লাল কার্ড আর কোন খেলোয়াড়ই দেখেননি!

*মে ৭, ২০১৮ তারিখে গোল্লাছুট ডটকমে প্রকাশিত

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

Got a PROJECT

IN MIND?

©2024 Nishat Ahmed Zishan, All Rights Reserved.

Developed by Asif Mollik