রাজ্জা নাইঙ্গোলান : ইন্টার মিলানের নতুন তুরুপের তাস

এই মৌসুমেই ২১ মিলিয়ন পাউণ্ডের চুক্তিতে এএস রোমা থেকে ইন্টার মিলানে নাম লিখিয়েছেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার রাজ্জা নাইঙ্গোলান। ইন্টার কোচ লুসিয়ানো স্প্যালেত্তি অবশ্য গত মৌসুমেই রোমা থেকে ইন্টারে এসেছিলেন, সেই তখন থেকেই সাবেক শিষ্যকে ইন্টারে নিয়ে আসার জন্য তাঁর তোড়জোড় ছিল চোখে পড়ার মত। অবশেষে এক বছর পর নাইঙ্গোলান কে ইন্টারে পেয়েছেন স্প্যালেত্তি। কিন্তু নাইঙ্গোলানকে পাওয়ার জন্য কেন এতটা উদগ্রীব ছিলেন স্প্যালেত্তি?

সেটার উত্তর আমরা পেতে পারি গত দুই মৌসুমে নাইঙ্গোলানের খেলা দেখে। সাধারণত প্রচণ্ড মাত্রায় ধূমপায়ী, পার্টি করে বেড়ানো, চুলে মো-হক কাট দেওয়া, সারা শরীরে ট্যাটু এঁকে বেড়ানো নাইঙ্গোলান প্রচণ্ড শক্তিশালী একজন মিডফিল্ডার, যিনি কি না সুযোগ পেলেই গোল করতে পছন্দ করেন। এ পর্যন্ত যেখানেই খেলেছেন – বেলজিয়ান জাতীয় দল, ক্যালিয়ারি, রোমা – সব দলেই মোটামুটি বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডারের ভূমিকাতেই দেখা গেছে তাকে। বা কখনো কখনো খেলেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। নাইঙ্গোলান কে এসব ভূমিকায় খেলানোর পিছে কোচদের পরিকল্পনা ছিল, যেহেতু তিনি শক্তিশালী একজন মিডফিল্ডার, সেহেতু তাঁকে দিয়ে রক্ষণের কাজটা ভালো করানো যাবে। দলের ডিফেন্ডারদের সহযোগিতা করবেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। পরে সুযোগ পেলে উপরে উঠে গোল করে আসলেন, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। মোটামুটি এই ভূমিকাতে খেলেই নিজেকে সিরি আ এর গত দশ বছরের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নাইঙ্গোলান। কিন্তু গত দুই বছরে তাঁর খেলার ধরণে বেশ পরিবর্তন এসেছে। আর বলা বাহুল্য, সে পরিবর্তনটা শুরু করেছেন সাবেক রোমা, ও বর্তমান ইন্টার কোচ, লুসিয়ানো স্প্যালেত্তি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে নাইঙ্গোলান
রোমার ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে নিয়মিত সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার/নাম্বার টেন হিসেবে নাইঙ্গোলান কে খেলানো শুরু করলেন স্প্যালেত্তি। একদম স্ট্রাইকারের পেছনে। রোমার মূল স্ট্রাইকার এডিন জেকোর একদম পেছনে খেলা শুরু করলেন তিনি। নাইঙ্গোলান কে এভাবে খেলানোর পেছনে স্প্যালেত্তির যুক্তি ছিল, নাইঙ্গোলানের বয়স হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাইঙ্গোলানের মত টেকনিক্যাল ক্ষমতা ও শক্তিমত্তাসম্পন্ন খেলোয়াড় বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়বেন, তাঁর কার্যকারিতা হারাবেন, এ কিভাবে হয়? কিন্তু যে পজিশনে খেলে নাইঙ্গোলান আজকের নাইঙ্গোলান হয়েছেন (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার), সে পজিশনে খেলার জন্য যেরকম ধকল যায় একজন খেলোয়াড়ের, সে ধকলটা হয়তো নাইঙ্গোলান এখন সামলাতে নাও পারতে পারেন। তাই স্প্যালেত্তি করলেন কি, নাইঙ্গোলান কে আরেকটু সামনে স্ট্রাইকারের পেছনে নিয়ে আসলেন। এতে যে সুবিধাটা হবে, নাইঙ্গোলান তাঁর স্বভাবজাত শক্তিমত্তা সরাসরি প্রদর্শন করতে পারবেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ওপর। কেননা সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে নাইঙ্গোলানকে চোখে চোখে রাখার দায়িত্বটা প্রতিপক্ষের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার কিংবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের ওপরেই পড়বে। সেখানে যদি নাইঙ্গোলান তাঁর শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে, রক্ষণ সামর্থ্যর সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বল কেড়ে নিতে পারেন, তাহলে নাইঙ্গোলানের সামনে বলতে গেলে প্রতিপক্ষের কেউই থাকবে না দুই-একজন ছাড়া, নাইঙ্গোলানের দলও তখন দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক করে গোল করতে পারবে। এই ভূমিকায় খেলার কারণে যে লাভটা হয়েছে, সেটা হল নাইঙ্গোলানের দল (আগে রোমা, এখন ইন্টার) কাউন্টার অ্যাটাকে আরো ক্ষুরধার হয়েছে। নাইঙ্গোলান নিজেও আগের চেয়ে আরো বেশী গোল করতে পারছেন, করাতে পারছেন।

এখন নাইঙ্গোলান
রোমা থেকে লুসিয়ানো স্প্যালেত্তি যখন ইন্টার মিলানে চলে গেলেন, স্প্যালেত্তির জায়গায় আসলেন ইউসেবিও ডি ফ্র্যানসেস্কো। তিনিও নাইঙ্গোলান কে রোমাতে একই জায়গায় খেলিয়ে গেছেন, যার সুফলটা রোমা পেয়েছে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার মাধ্যমে।

সেই নাইঙ্গোলান এই মৌসুমে যোগ দিয়েছেন স্প্যালেত্তির ইন্টারে। ভূমিকা সেই আগের মতই আছে। নাইঙ্গোলান এখন খেলছেন সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। আগে নাইঙ্গোলান এর সামনে ছিলেন জেকো, এখন খেলেন মাউরো ইকার্দি। প্রতিপক্ষ বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত গোলশিকারী হিসেবে দুজনেরই সুনাম রয়েছে। আর তাদের পিছে খেলে নাইঙ্গোলানও নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন নতুন ভাবে!

*২০১৮ সালে গোল্লাছুট ডটকমে প্রকাশিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

Got a PROJECT

IN MIND?

©2024 Nishat Ahmed Zishan, All Rights Reserved.

Developed by Asif Mollik